অগ্নিবাণ-২

 লেখক মহোদয়,সূচনা থেকে শেষপর্যন্ত যা যা লিখেছেন তার মধ্যে ইসলাম এবং সনাতন ধর্ম উভয় বিষয় বিদ্যমান। এর মধ্যে সনাতন ধর্ম নিয়ে তিনি পাণ্ডিত্য দেখাতে গিয়ে কেমন মূর্খতার পরিচয় ও জোকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা দেখানোর প্রয়াস করবো। তার পুস্তকের পেইজগুলোর ছবিও এখানে ব্যবহার করে, ক্রমান্বয়ে সমীক্ষা করবো। 



মূল লেখার পূর্বেই তিনি নিজ পরিচয় যেভাবে উপস্থাপন করলেন, ভেবেছিলাম হয়তো পুস্তকে সকল কিছুই তিনি সঠিক প্রমাণ সহ অন্যের উপকারার্থে লিখেছেন, কিন্তু হতাশ হলাম, কেননা তিনি যে লিখলেন এক লক্ষ বা দুই লক্ষ চব্বিশ হাজার নবী বা রাসুলের কথা, তাদের নামের তালিকা কই? প্রমাণসহ এই নামের তালিকা দিলে তো অনেকেই আকর্ষিত হতো এবং মুসলিমদেরও উপকার হতো। 


অন্ততপক্ষে শাস্ত্রের নামগুলো তো জেনে নিতে পারতে, ভেতরে না হয় নাইবা গেলে।
১.ভেদ নয় 'বেদ'। vedus নয় 'vedas'.
২.উপানিশাদ নয় 'উপনিষদ্'।
৩.রামায়ন নয় 'রামায়ণ'।
৪.মনোস্মৃতি নয় 'মনুস্মৃতি' হবে।


এই যে বললে ইসলাম ধর্ম বুঝতে হলে কোরান দ্বারা বুঝতে হবে, তা কোরানের কোন আয়াতে ইসলামকে ধর্ম বলা হয়েছে, এই তথ্যটা দিলেন না। দিলে অন্ততপক্ষে মুসলিমরা উপকৃত হতো।

এখানে টাইটেল দিলেন হিন্দু বা হিন্দুশাস্ত্রের উৎপত্তি কিন্তু শাস্ত্রে উৎপত্তি বিষয়ে কিছুই লিখলেন না, ভুলে গেলেন নাকি জানেনই না? হিন্দু শব্দ নিয়ে এত তর্কের আবশ্যতাও নেই এখানে, কেননা আমরা তো স্বীকার করি আমাদের ধর্ম 'সনাতন'। 

গুরু বা ঋষিদের মতে উচিৎ ছিলো এর মানে কি? নাম তো 'সনাতন' ছিলো, আছে, থাকবে। আর
১.ভেদিক ধর্ম নয় 'বৈদিক ধর্ম' ভেদ নয় 'বেদ'।


বিবেকানন্দজীর মতে হিন্দুশাস্ত্র নাম ভিত্তিহীন এই কথার রেফারেন্স কেন দিতে পারলেন না? আরো একটা প্রশ্ন যুক্ত করি - “গর্বের সাথে বলো আমি হিন্দু” এই কথা কে বলেছেন?
আর–
১.ভেদের অনুসারী নয়, 'বেদের', vedantis নয় স্বামী বিবেকানন্দ বৈদান্তিক ছিলেন।

হিন্দুশাস্ত্রে আল্লাহ বা ঈশ্বরের ধারনা


টাইটেল দিলেন কিন্তু শাস্ত্র থেকে কিছুই দেখালে না এখানে। আবার বললে কেহ নাকি ৩জন ঈশ্বর বলে আবার কেহ বা ১০/১০০/১০০০ অথবা তেত্রিশ কোটি ঈশ্বর বলে। কেহ টা কে? এই প্রমাণ সহ দিলে কেহ তো মিথ্যচারী বলতে পারতো না। আবার সাধারণ সনাতনী অর্থাৎ আমরা সবাই নাকি গাছ, গরু, সাপ, মানুষকে ঈশ্বর বলি, লেখক মহোদয় অন্ততপক্ষে এই প্রমাণটা তো দিতে পারতেন যে কোন সাধারণ সনাতনী আপনাকে ঈশ্বর বলেছে। নাকি আপনাকে বলেনি? কেন বলেনি, আপনি কি মানুষ না?

১.চান্দোগায়া নয় 'ছান্দোগ্য', উপানিশাদ নয় 'উপনিষদ্', অধ্যায় -৬ নয় 'ষষ্ঠপ্রপাঠক', সেকশন-০৬ নয় 'ষষ্ঠ-অধ্যায় বা অধ্যায়-৬', আয়ত-১ নয় 'শ্লোক-১'।

ইংরেজী অংশও অধিকতর ভুল, পাঠক স্বয়ম খেয়াল করুন আর তার মূর্খতার অনুমান করুন, হাসুন এবং পারলে লেখক সহ তার সাথে জরিত সকলের বিরুদ্ধে গর্জে উঠুন। আমি বাংলা অংশকেই বেশিরভাগ দেখানোর প্রয়াস করছি। আর শ্লোক ও মন্ত্রগুলোর অনুবাদ অগ্নিবাণ-প্রথম খণ্ডেই দেওয়া হয়েছে বিধায় পুনঃ অত্র দিচ্ছিনা।

২.শাতাশভাতারা উপানিশাদ নয় 'শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ্', অধ্যায়-৬, আয়াত-৯ নয় 'অধ্যায়-৬, শ্লোক-৯' হবে।

৩.শাতাশভাতারা উপানিশাদ নয় 'শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ্', অধ্যায়-৪, আয়াত-১৯ নয় 'অধ্যায়-৪, শ্লোক-১৯' হবে।

৪.শাতাশভাতারা উপানিশাদ নয় 'শ্বেতাশ্বতরোপনিষদ্', অধ্যায়-৪, আয়াত-২০ নয় 'অধ্যায়-৪, শ্লোক-২০' হবে।

৫. ভেদ নয় 'বেদ'।

৬.ইয়াযোরভেদ নয় 'যজুর্বেদ', অধ্যায়-২৩,আয়াত-৩ নয় 'অধ্যায়-২৩,মন্ত্র-৩'।

৭.ইযাযোরভেদ নয় 'যজুর্বেদ', অধ্যায়-৪০,আয়াত-৮ নয় 'অধ্যায়-৪০,মন্ত্র-৮'।

৮.রিগভেদ নয় 'ঋগ্বেদ', রিগভেদ বই-১ নয় 'ঋগ্বেদ মণ্ডল-১', হিম-১৬৪ নয় 'সূক্ত-১৬৪', আয়াত-৪৬ নয় 'মন্ত্র-৪৬'।



৯..রিগভেদ নয় 'ঋগ্বেদ', রিগভেদ বই-১০ নয় 'ঋগ্বেদ ১০', হিম-১১৪ নয় 'সূক্ত-১১৪', আয়াত-৫ নয় 'মন্ত্র-৫'। এবং বই-২, হিম-১ মানে বুঝানো যাচ্ছেনা, কেননা মিস্টার মূর্খ এখানে ২টি বিভাগ দিয়েছে মাত্র।

১০.রিগভেদ নয় 'ঋগ্বেদ', বই-২ নয় 'মণ্ডল-২', হিম-১ নয় 'সূক্ত-১' আয়াত-৩ নয় 'মন্ত্র-৩'।

ঋগ্বেদ-২/১/৩ মন্ত্রে ব্রাহাহ্মা বলে কোন শব্দ নেই এবং মিস্টার লেখক যা আরো যা বলেছে তাও নেই, যা আছে তা এরূপ - 

ত্বমগ্ন ইন্দ্রো বৃষভঃ সতামসি ত্বং বিষ্ণুরুরুগায়ো নমস্যঃ।
ত্বং ব্রহ্মা রয়িবিদ্ ব্রহ্মণস্পতে ত্বং বিধর্তঃ সচসে পুরন্ধ্যা॥৩॥

ভাষ্য : হে (অগ্নে) সূর্যের ন্যায় প্রকাশমান! (ত্বম্) তুমি (ইন্দ্রঃ) ঐশ্বর্যবান্, (বৃষবঃ) বলবান্ সকল উত্তম সুখ প্রদানকারী, (সতাম্ নমস্যঃ) সকল সৎপুরুষের নিকট নমস্কার এবং পূজা পাওয়ার যোগ্য। (ত্বম্) তুমি (বিষ্ণুঃ) ব্যাপক সামর্থ্যবান্, (উরুऽগায়ঃ) বহুজনের নিকট কীর্তিমান (ত্বম্) তুমি (ব্রহ্মা) মূখ্য-মুখ্য কার্য সম্পাদনকারী, বেদের বিদ্বান্ (রয়িऽবিত্) সকল পদার্থের জ্ঞাতা। হে (ব্রহ্মণঃ পতে) বেদ, মহান্ রাষ্ট্র, অন্ন ধন আদির পালক! হে (বিऽধর্তঃ) বিবিধ ধর্ম ও উত্তম গুণ, বিবিধ উপায়ে রাষ্ট্রের ধারণকারী! তুমি (পুরম্ऽধ‍্যা) পূর্ণ বিদ্যা এবং পুর, রাষ্ট্রকে ধারণ করার বুদ্ধি এবং রাজনীতির সহিত, স্ত্রীর সহিত গৃহপতির ন্যায় থেকে (সচসে) বলবান্, সমবায় হয়ে রও। (২) পরমেশ্বর ব্রহ্ম অর্থাৎ বেদের পালক এবং ব্রহ্মাণ্ডকে ধারণ করার শক্তিযুক্ত। তিনি স্বয়ং 'ব্রহ্মা' সবচেয়ে মহান্, ঐশ্বর্যবান্, ব্যাপক, সর্বস্তুতিযোগ্য, সকলের উপাস্য॥৩॥

আবার শাতাশভাতারা উপানিশাদ লিখেছে, নামটা শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ্' হবে। 


১১.পুনঃ বই-২, হিম-১, আয়াত-৩ লিখে নিজ জোকারিতার পরিচয় দিয়েছে, এর যথাস্বরূপ ১০নং পয়েন্টেই দেওয়া হয়েছে।  বিষ্ণু শব্দের কেবল একটি অর্থ হয়না সেটা মনে হয় মিস্টার জোকার জানেননা, আর ইয়াযোর ভেদ নয় 'যজুর্বেদ' হবে।

১২.রিগভেদ নয় 'ঋগ্বেদ', বই-১০ নয় 'মণ্ডল-১০', হিম-১ নয় 'সূক্ত-১', আয়াত-১ নয় 'মন্ত্র-১' এবং বই-৬,হিম-৪৫,আয়াত-১৬ নয় 'মণ্ডল-৬/সূক্ত-৪৫/মন্ত্র-১৬ হবে। তাছাড়া Reigveda নয় 'Rigveda' বাকি ইংরেজীও ভূলে ভরপুর।

১৩.ব্রাহাহ্মাসূত্র বলে কোন শাস্ত্র নেই 'ব্রহ্মসূত্র' নামে আছে কিন্তু এর কোথাও এভাবে বলা হয়নি। আর এই জোকার স্কলার কোন রেফারেন্সও দেয়নি।

১.ভগবদ গিতা নয় 'শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা'।

২.ভগবদ গিতা নয় 'শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা' এবং আয়াত-২০ নয় 'শ্লোক-২০। আর গীতা-৭/২০ এ এমনভাবে বলা হয়নি, যা আছে তা এরূপ–




৩.ইয়াযোরভেদ নয় 'যজুর্বেদ', অধ্যায়-৪০ আয়াত-৯ না 'অধ্যায়-৪০ মন্ত্র-৯'।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

নবীনতর পূর্বতন