![]() |
| বেদে প্রযুক্ত গন্ধর্ব ও অপ্সরস্ শব্দসমূহের অর্থ-বিচার |
বিভিন্ন সাহিত্যে গন্ধর্ব ও অপ্সরস্ শব্দের ব্যবহার দেখা যায়। সকারান্ত “অপ্সরস্” শব্দের স্থলে আকারান্ত “অপ্সরা” শব্দও পাওয়া যায়। সাধারণত এদের আকাশলোকবাসী দেবযোনির[১] বিশেষ সত্তা হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে এবং সংগীতের সঙ্গে এদের সম্পর্ক ধরা হয়। নিম্নোক্ত গবেষণামূলক প্রবন্ধে আমরা বেদে ব্যবহৃত এই শব্দগুলোর উপর আলোচনা করছি।
গন্ধর্ব
“গন্ধর্ব” শব্দটি বেদে স্বাধীনভাবেও পাওয়া যায়, আবার অপ্সরাদের সঙ্গেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে।
লোকপ্রচলিত অর্থে এই শব্দ দেবযোনির এক বিশেষ শ্রেণিকে বোঝায়। শব্দার্থকোষে এর আরও নানা অর্থ বর্ণিত হয়েছে, যেমন— স্বর্গীয় গায়ক, ঘোড়া, বিশেষ পশুজাতি, কস্তুরীমৃগ, মৃত্যু ও পুনর্জন্মের মধ্যবর্তী অবস্থায় থাকা জীবাত্মা, পুরুষ কোকিল, শিব, বিশেষ গ্রহ, চন্দ্র, সূর্য, রাজাদের স্তোত্রপাঠক, শরীরের অধিষ্ঠাতা দেববিশেষ [২] ইত্যাদি।
ব্রাহ্মণগ্রন্থে অগ্নি, সূর্য, চন্দ্র, বায়ু, যজ্ঞ, মন ও প্রাণ— এই অর্থগুলো প্রধানত “গন্ধর্ব” শব্দের জন্য বলা হয়েছে।[৩]
এই শব্দের ব্যুৎপত্তি এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—
গন্ধং সৌরভং সংগীতবাদ্যাদিজনিতপ্রমোদং বা অর্বতি প্রাপ্মোতীতু গন্ধর্বঃ।[৪]
অথবা - গাঃ রশ্মীন্ উদকানি বাণীঃ পৃথিব্যাদিলোকান্ বা ধরতীতি গন্ধর্বঃ।[৫]
অথবা - গানং ধারয়তীতি গন্ধর্বঃ।[৬]
অথবা - গচ্ছতীতি গং ব্রহ্ম তদ্ ধরতীতি স গন্ধর্বঃ।[৭]
“যে সুগন্ধ, সৌরভ অথবা সংগীত ও বাদ্য থেকে উৎপন্ন আনন্দ লাভ করে, সে গন্ধর্ব।”
অথবা “যে রশ্মি, জল, বাণী কিংবা পৃথিবী প্রভৃতি লোককে ধারণ করে, সে গন্ধর্ব।” অথবা “যে গান ধারণ করে, সে গন্ধর্ব।” অথবা “যে ব্রহ্মতত্ত্বে গমন করে এবং তাকে ধারণ করে, সে গন্ধর্ব।”
এখানে আমাদের বিবেচনা করতে হবে যে বৈদিক সংহিতাগুলোতে “গন্ধর্ব” শব্দটি কোন কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অপ্সরারা কারা এবং গন্ধর্বদের সঙ্গে তাদের কী সম্পর্ক।
প্রথমে আমরা বৈদিক “গন্ধর্ব” শব্দটি নিয়ে আলোচনা করি। বেদে “গন্ধর্ব” শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশংসাসূচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যদিও কোথাও কোথাও নিন্দাসূচক অর্থেও এসেছে।
১. পরমাত্মা
পরমাত্মাকে গন্ধর্ব বলা হয়, কারণ তিনি পৃথিবী আদি লোকলোকান্তরকে ধারণ করেন। যথাঃ-
দিব্যো গন্ধর্বো ভুবনস্য যস্পতিরেক এব নমস্যো বিক্ষ্বীড়্যঃ।
তং ত্বা যৌমি ব্রহ্মণা দিব্য নমস্তে অস্তু দিবি তে সধস্থম্।। অথর্ববেদ (২/২/১)
(গন্ধর্বঃ) পৃথিবী আদি লোকসমূহের ধারণকর্তা পরমাত্মা (দিব্যঃ) হলেন দিব্য (যঃ ভুবনস্য পতিঃ) যিনি ব্রহ্মাণ্ডের স্বামী এবং রক্ষক (একঃ এব) তিনি একজনই এবং (বিক্ষু ইড়্যঃ) প্রজাদের মাঝে পূজনীয়। (তং ত্বা) সেই তোমাকে [পরমাত্মাকে] (ব্রহ্মণা যৌমি) আমি জীবাত্মার সাথে যুক্ত করছি। (দিব্য দেব) হে দিব্য দেব (নমঃ তে অস্তু) তোমার প্রতি নমস্কার (দিবি তে সধস্থম্) আমার জ্যোতির্ময় আত্মাতে তোমার নিবাসস্থান হোক।।
২. প্রাণ
প্রাণকেও গন্ধর্ব বলা হয়, কারণ সে শরীরস্থ অঙ্গ ও বাণীকে ধারণ ও রক্ষা করেন। যথাঃ-
পতঙ্গো বাচম্ মনসা বিভর্তি তাং গন্ধর্বোঽবদদ্রর্ভে অন্তঃ।
তাং দ্যোতমানাং স্বর্য়ং মনীষামৃতস্য পদে কবয়ো নি পান্তি।।
~ ঋগ্বেদ (১০/১৭৭/২)
(পতঙ্গ) প্রাণ (মনসা) মনের দ্বারা (বাচম্ বিভর্তি) বাণীকে ধারণ করে (তাম্) সেই বাণীকে (গন্ধর্বঃ) ইন্দ্রিয়াদি শরীরের অঙ্গের ধারক প্রাণ (গর্ভে অন্তঃ অবদৎ) গর্ভ মধ্যে আহ্বান করে। (দ্যোতমানাম্) জ্যোতির্ময় অর্থাৎ ব্যক্ত (স্বর্য়ম্) স্বর সহিত উচ্চারণ যোগ্য (মনীষাম্) মন যার প্রভু এমন (তাম্) সেই বাণীকে (কবয়ঃ) বিদ্বৎজন (ঋতস্য পদে নিপান্তি) ঋতের পদে রক্ষা করেন।[৮]
ভাবার্থ: প্রাণশক্তিই আমাদের দেহের সবকিছু আর কথাবলার ক্ষমতার ধারক। কথা প্রথমে মনে জন্মায়, তারপর প্রাণের টানে হৃদয় থেকে উঠে এসে মুখ দিয়ে বের হয়। তাই প্রাণকেই "গন্ধর্ব" বলা হয়েছে - কারণ সে-ই শরীর আর বাণীর রক্ষক। আর জ্ঞানীরা সেই সত্য বাণীকে যত্ন করে ধরে রাখে।
৩. সূর্য
সূর্যকেও গন্ধর্ব বলা হয়, এ সপক্ষে প্রমাণ হলো 'সূর্যো গন্ধর্বঃ' (যজু০ ১৮/৩৯)। সূর্যকে গন্ধর্ব বলা হয়, কারণ সে গ্রহ-উপগ্রহরূপ সৌরমণ্ডলকে ধারণ করেছে। যথা-
গন্ধর্ব ইত্থা পদমস্য রক্ষতি পাতি দেবানাং জনিমান্যদ্ভুতঃ।
গৃভ্ণাতি রিপুং নিধয়া নিধাপতিঃ সুকৃত্তমা মধুনো ভক্ষমাশত।।
ঋগ্বেদ (৯/৮৩/৪)
দেবতা সোম - চন্দ্রমা। (অস্য) এই সোম বা চন্দ্রমার (পদম্) মন্ডলকে (ইত্থা) প্রকৃতপক্ষে (গন্ধর্বঃ রক্ষতি) সূর্য রক্ষা করে থাকে, (অদ্ভূতঃ) সেই অদ্ভুত সূর্য (দেবানাম্) আলেকিত গ্রহ-উপগ্রহ সকলের(জনিমানি) জন্ম (পাতি) রক্ষা করে। (নিধাপতিঃ) কিরণজালের অধিপতি সেই সূর্য (নিধমা) কিরণজাল দিয়ে (রিপুম্) অন্ধকার-রূপ অথবা ব্যাধিরূপ শত্রুকে (গৃভ্ণাতি) অবরুদ্ধ করে। (সুকৃত্তমাঃ) অতিশয় পূণ্যকর্তা মনুষ্য (মথুনঃ) সূর্যকৃত বৃষ্টিরস রূপ মধু অথবা (ভক্ষম্ আশত) পরিণত ভোজনকে উপলব্ধ করায়।।
ভাবার্থ - বৈদিক দর্শনে "সোম" মানে চাঁদ। বলা হচ্ছে - চাঁদকে সূর্যই আলো দেয়, রক্ষা করে। সূর্যের আলোই গ্রহ-নক্ষত্রদের জন্মকে রক্ষা করে অর্থাৎ অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখে। সূর্যের কিরণ দিয়ে অন্ধকার আর রোগ-ব্যাধি দূর হয়। আর সূর্যের তাপে বৃষ্টি হয়, সেই বৃষ্টির জল গাছপালায় রস হয়ে যায় - সেই রসই মানুষের খাদ্য, "মধু"। তাই যারা পুণ্য করে তারাই এই সূর্যের দেওয়া খাবার পায়।।
৪. সূর্য রশ্মিসমূহ
সূর্য-রশ্মিসূমহকেও গন্ধর্ব বলা হয়, সুতরাং সে গ্রহোপগ্রহরূপ পৃথিবী আদিকে ধারণ করে।
যথা -
ইদং সদো রোহিণী রোহিতস্যাসৌ পন্থাঃ পৃষতী যেন যাতি।
তাং গন্ধর্বাঃ কশ্যপা উন্নয়ন্তি তাং রক্ষন্তি কবয়োঽপ্রমাদম্।।
অথর্ববেদ (১৩/১/২৩)
(রোহিতস্য) লোহিতবর্ণ প্রাতঃকালীন সূর্যের (রোহিণী) লোহিতবর্ণা উষা (ইদং সদঃ) এটি হলো স্থিতিস্থান রথ। (অসৌ পন্থাঃ) সেই আকাশমার্গ (যেন পৃষতী যাতি) যার মধ্যে বিচিত্র রঙের উষা বিচরণ করে। (তাম্) সেই উষাকে (কশ্যপাঃ [৯] গন্ধর্বাঃ) প্রকাশকর্তা সূর্য কিরণসমূহ উন্নীত করে। (কবয়ঃ) গতিশীল সেই সূর্য-কিরণরূপ গন্ধর্ব (অপ্রমাদম্) প্রমাদহীন (তাং রক্ষন্তি) সেই উষাকে রক্ষা করে থাকে।।
৫. চন্দ্র
চন্দ্রমাকেও গন্ধর্ব বলা হয় কারণ সে সূর্য-রশ্মিরূপ গো-কে ধারণ করে।[১০] যথা -
ঊর্ধ্বো গন্ধর্বো অধি নাকে অস্থাদ্বিশ্বা রূপা প্রতিচক্ষাণো অস্য।
ভানুঃ শুক্রেভ শোচিষা ব্যদ্যৌৎপ্রারূরুচদ্রোদসী মাতরা শুচিঃ।।
- ঋগ্বেদ (৯/৮৫/১২)
দেবতা পবমানঃ সোম। (ঊর্ধ্বঃ) ঊর্ধ্বেস্থিত (গন্ধর্বঃ) সূর্য-কিরণের ধারক চন্দ্রমা (নাকে অধি অস্থাৎ) দূল্যোকে স্থিত হয়েছেন। (অস্য) এই সূর্যের (বিশ্বা রূপা প্রতিচক্ষাণঃ) সকল রূপকে প্রকাশিত করতে করতে (ভানুঃ) সূর্য [ চন্দ্রমাতে স্থিত থেকে ] (শুক্রেণ শোচিষা) উজ্জ্বল দীপ্তি দ্বারা (ব্যদ্যৌৎ) দেদীপ্যমান হচ্ছে। (শুচিঃ) দীপ্তিমান সূর্য (মাতরা রোদসী) নির্মাত্রী দাব্যাপৃথিবীকে (প্রারূরুচৎ) উদ্দীপিত করছে।।
৬. মেঘ
মেঘকেও গন্ধর্ব বলা হয় -
গাম্ উদকং ধারয়তীতি গন্ধর্বো মেঘঃ। যথা -
অভি গন্ধর্বমতৃণদবুধ্নেষু রজঃস্বা। ইন্দ্রো ব্রহ্মভ্য ইদ্ বৃধে।।
ঋগ্বেদ (৮/৭৭/৫)
(ইন্দ্রঃ) ইন্দ্র (ব্রহ্মভ্যঃ ইদ্ বৃধে) ব্রাহ্মণ আদি বর্ণের বৃদ্ধির জন্য (অবধ্নেষু রজঃসুআ) অন্তরিক্ষলোকে আগমনপূর্বক (গন্ধর্বম্) জলধারক মেঘকে (অভি অতৃণৎ) দমন করেছে।।[১১]
৭. বায়ু
বায়ুকেও গন্ধর্ব বলা হয়, উদক বা পৃথিবীরূপী গৌ - কে ধারণ করার কারণে।[১২]
পর্জন্যবৃদ্ধং মহিষং তং সূর্যস্য দুহিতাভরত
তং গন্ধর্বাঃ প্রতগৃভন্তং সোমে রসমাদধুরিন্দ্রায়েন্দো পরি স্রব।।
ঋগ্বেদ (৯/১১৩/৩)
(পর্জন্যবৃদ্ধম্) মেঘ মধ্যে বিস্তীর্ণ (তং মহিষম্) সেই মহান জলকে (সূর্যস্য দুহিতা) সূর্যের কন্যা বিদ্যুৎ (অভরৎ) হরণ করে পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে। (তম্) সেই জলকে (গন্ধর্বাঃ) বায়ু (প্রত্যগৃহ্বন্) গ্রহণ করে নেয় এবং (তং রসং সোমে আদধুঃ) সেই রসকে সোমলতার বৃক্ষে প্রবিষ্ট করায়। সেই (ইন্দো) হে সোমরস! তুমি (ইন্দ্রায় পরিস্রব) ইন্দ্রের নিমিত্তে পরিশোধিত হও।।
৮. অগ্নি
অগ্নিকেও গন্ধর্ব বলা হয়, 'অগ্নির্গন্ধর্বঃ' (যজুর্বেদ ১৮/৩৮) এই প্রমাণটি। কারণ অগ্নিতত্ত্ব বাণী বা পৃথিবীরূপ গৌ-কে ধারণ করে।[১৩]
বিশ্বকর্মা হ্যজনিষ্ট দেবঽআদিদ্ গন্ধর্বোঽঅভবদ্ দ্বিতীয়ঃ।
তৃতীয়ঃ পিতা জনিতৌষধীনামপাং গর্ভং ব্যদধাৎপুরুত্রা।।
যজুর্বেদ (১৭/৩২)
মন্ত্রে সৃষ্টিক্রম সম্বন্ধে বলা হচ্ছে। প্রথমে (দেবঃ বিশ্বকর্মাঃ) দানাদি-গুণযুক্ত বায়ু ( হি অজনিষ্ট) নিশ্চিতরূপে উৎপন্ন হয়। (আদৃ ইৎ) তারপরই (গন্ধর্বঃ দ্বিতীয়ঃ অভবৎ) দ্বিতীয়তে অগ্নি উৎপন্ন হয়। (তৃতীয়ঃ) তৃতীয়তে (পিতা) পালনকর্তা (ঔষধীনাং জনিতা) ঔষধীসকলের উৎপাদক পর্জন্য উৎপন্ন হয়, যিনি (পুরুত্র) অনেকত্র থাকা (অপাং গর্ভং ব্যদধাৎ) জলসমূহের স্থিতিস্থান সরোবরকে উৎপন্ন করেন।।[১৪]
৯. যজ্ঞ
যজ্ঞকেও গন্ধর্ব বলা হয়, "যজ্ঞো গন্ধর্বঃ" (যজু০১৮/৪২) এই প্রমানটির দ্বারা এবং "গাম্ ভূমিং ধরতীতি গন্ধর্বো যজ্ঞঃ" এই ব্যুৎপত্তির মাধ্যমে।
গন্ধর্বস্বা বিশ্বাবসুঃ পরিদধাতু বিশ্বস্যারিষ্টৈ যজমানস্য পরিধিরস্যগ্নিরিড়ঈড়িতঃ। (যজু০ ২/৩)
(বিশ্বস্য অরিষ্টৈ) সকলের জন্য (ত্বা পরিদধাতু) তোমাকে চতুর্দিক থেকে ধারণ ও রক্ষা করুক। আগে গিয়ে যজ্ঞাগ্নিকে বলা হচ্ছে - (অগ্নিঃ) যজ্ঞাগ্নি তুমি (যজমানস্য পরিধিঃ অসি) যজমানের পরিধায়ক, তুমি (ইড়ঃ) স্তুতিযোগ্য ও (ঈড়িতঃ) সংস্তুত।
১০. রাষ্ট্রভৃতঃ
রাষ্ট্রভৃতঃ রাজপুরুষদেরও গন্ধর্ব বলা হয়, এসপক্ষে প্রমাণ হলো তৈত্তিরীয় সংহিতা (৩/৪/৮/৪) - "এতে খলু বৈ গন্ধর্বাপ্সরসো যদ্ রাষ্ট্রভৃতঃ।। রাষ্ট্রভূমিরূপ গৌ-কে ধারণ করার কারণে তাদের গন্ধর্ব বলা হয়।।
ত্রীণি রাজানা বিদথে পুরূণি পরি বিশ্বানি ভূষথঃ সদাসি।
অপশ্যমত্র মনসা জগন্বান্বতে অপি বায়ুকেশান্।।
- ঋগ্বেদ (৩/৩৮/৬)
স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী এই মন্ত্রের ভাষ্যতে রাষ্ট্রসভার বর্ণনা মেনেছেন - "রাজ্যসঞ্চালনার্থে রাজসভা, বিদ্যার উন্নতির জন্য বিদ্যাসভা এবং ধর্মপ্রচারার্থে ধর্মসভা।
(রাজা) হে রাজা-প্রজাবৃন্দ! আপনারা উভয়ে (বিদথে) রাষ্ট্রযজ্ঞে (ত্রীণি সদাংসি) রাজসভা, বিদ্যাসভা ও ধর্মসভা এই সভাত্রয়কে (পরি ভূষথঃ) অলংকৃত করে থাকেন, এবং তাদের থেকে (পুরুণি বিশ্বানি) অনেকপ্রকারে সমস্ত কার্যকে (পরি ভূষথঃ) পরিপূর্ণ করো। (অত্র) এই সভাগুলোতে (মনসা জগন্বান্) মনের দ্বারা গতিশীল হয়ে আমি (ব্রতে) রাষ্ট্রসেবামূলক ব্রতে স্থিত (বায়ুকেশান্) বায়ু তূল্য দ্রুত প্রচার দ্বারা সকল ব্যবহারের জ্ঞাতা এবং কেশ অর্থাৎ সূর্যরশ্মহির মতো সত্য, ন্যায়, ধর্ম আদির প্রকাশক (গন্ধর্বান্) সুশিক্ষিত বাণী ও রাষ্ট্রভূমিকে ধারণকর্তা রাষ্ট্রভৃত সদস্যকে (অপশ্যম্) দেখেছি।।
১১. কৃষি-কর্মকার
কৃষির জন্য ভূমি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ফসল কাটা এবং যথাস্থানে তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য যেসকল কর্মচারী রাখা হয়, তাদেরও গন্ধর্ব বলা হয়, সুতরাং তারা কৃষিজমিতে কাজ করে। নিম্নলিখিত মন্ত্রে বলা হয়েছে যে, যা উৎপাদিত হয়েছে তার আট ভাগ করতে হবে, সাতটি ভাগ সমান হবে এবং অষ্টম ভাগটি বড় হবে। ভাগের কতটা পরিমাণ কাকে কাকে দিতে হবে সে সম্বন্ধে বলা হচ্ছে -
তিস্রো মাত্রা গন্ধর্বাণাং চতস্রো গৃহপত্ন্যাঃ। তাসাং যা
স্ফাতিমত্তমা তয়া ত্বাভি মৃশামসি।।
~ অথর্ববেদ (৩/২৪/৬)
(তিস্রো মাত্রাঃ গন্ধর্বাণাম্) তিন মাত্রা পাবে গন্ধর্বেরা অর্থাৎ কর্মচারীরা[১৫] (চতস্রঃ গৃহপত্ন্যাঃ) চার মাত্রা হবে গৃহপত্নীর। হে প্রজাপতি রাজন্! (তাসাং যা স্ফাতিমত্তমা) তার মধ্যে থেকে সবচেয়ে বড় মাত্রা (তয়া ত্বা অভিমৃশামসি) তোমার অধিকৃত করছি।।
এই প্রকার উৎপাদনের মধ্যে থেকে তিন মাত্রা পাবে কৃষি কর্মকারবৃন্দ, চারটি ভাগ পাবে গৃহকর্তা স্বয়ং আর সবথেকে বড় মাত্রাটি পাবে রাজ-বিভাগ, রাজ-কর হিসেবে।।
১২. গায়ক[১৬]
গানবিদ্যায় কুশল গায়কদেরও গন্ধর্ব বলা হয়েছে -
গাং গীতিবাচং ধরতীতি গন্ধর্বঃ।।[১৭]
ত্বাং গন্ধর্বাঽঅখনঁস্ত্বামিন্দ্রস্ত্বাং বৃহস্পতিঃ।
ত্বামোষধে সোমো রাজা বিদ্বান্ যক্ষ্মাদমুচ্যত।। - যজুর্বেদ (১২/১৮)
এই মন্ত্রে ঔষধীকে বলা হচ্ছে যে তোমাকে গন্ধর্ব, ইন্দ্র, বৃহস্পতি এবং সোম রাজা খনন করে আর তোমার গুণ-কর্মের জ্ঞাতারা তোমাকে প্রয়োগ করে রোগ ব্যাধি থেকে মুক্ত হয়। গন্ধর্ব গানবিদ্যাকুশল, ইন্দ্র কৃষি প্রভৃতি কার্যের দ্বারা ঐশ্বর্য অর্জনকারী বৈশ্য। বৃহস্পতি হলো ব্রাহ্মণ, সোম রাজা শান্তির উপাসক ক্ষত্রিয়। অন্যত্র স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীও গন্ধর্ব অর্থ গায়ক করেছেন।।[১৮]
স্ত্রীলিঙ্গে "গন্ধর্বী" শব্দ নিম্নলিখিত মন্ত্রে গায়িকা অর্থে এসেছে -
রপদ্গন্ধর্বীরপ্যা চ যোষণা নদস্য নাদে পরি পাতু মে মনঃ।
ইষ্টস্য মধ্যে অদিতির্নি ধাতু নো ভ্রাতা নো জ্যেষ্ঠঃ প্রথমো বি বোচতি।।
- ঋগ্বেদ (১০/১১/২)
(গন্ধর্বীঃ) গায়িকা (অপ্যা চ যোষণা) এবং কর্মকুশল নারী গৃহিণী (রপদ্) গীত পরিবেশন করুক। সে (নদস্য নাদে) স্তোতার গীতিনাদ হওয়ার পর (মে মনঃ পরিপাতু) আমার মনকে গানের মধ্যে রক্ষা করুক। গান গাইতে থাকা (অদিতিঃ) মাতাও (নঃ ইষ্টস্য মধ্যে নিদধাতু) আমাদের অভীষ্ট উপাস্য দেবের মাঝে নিহিত করুক। (নঃ প্রথম জ্যেষ্ঠঃ ভ্রাতা) আমাদের শ্রেষ্ঠ ও জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাও (বি বোচতি) বিশেষরূপে স্তুতিগান করুক।।
এইভাবে গায়িকার সাথে ঘরের সকল সদস্য প্রভুগান আনন্দিত হয়ে করতে থাকুক।
এখানে গানের মধ্যে আমার মনকে রক্ষা করুক - এই কথাটার তাৎপর্য হলো গান যখন পরিবেশন করা হয় তখন আমার মন ঈশ্বরের গানের মাঝেই যেন ডুবে থাকে। অন্য কোনোদিকে যেন বিক্ষিপ্ত না হয়।
অপ্সরা ও তাদের সাথে গন্ধর্বদের সম্বন্ধ
বেদে আকারান্ত 'অপ্সরা' এবং সকারান্ত 'অপ্সরস্' উভয় শব্দ প্রযুক্ত হয়েছে। সায়ণ নিরুক্ত অনুসারে এই দুইটি শব্দের নিষ্পত্তি নিম্নপ্রকারে দেখিয়েছেন।[১৯]
অপ্সরা - ১. অপ্ শব্দ অন্তরিক্ষ এবং উদক বাচী।তাতে বিচরণ করার কারণে 'অপ্সরা' বলা হয়। অপ্-সৃ-ধাতু-বাহুলকাৎ অচ্ প্রত্যয়, স্ত্রীলিঙ্গে টাপ্। ২. অথবা 'অপ্স' শব্দ হলো রূপবাচক,তার উপর র প্রত্যয় মতুবর্থক, স্ত্রীলিঙ্গে হলো টাপ্, রূপবতী।
অপ্সরস্ - ১. অপ্সু সরতীতি অপ্সরাঃ। অপ্ পূর্বক সৃ ধাতু অসুন প্রত্যয়। ২. রূপবাচক অপ্স শব্দের দ্বারা আদানার্থক লা ধাতুর ল্ কে র্ করে অসুন্ প্রত্যয়। ৩. অথবা অপ্স পূর্বক রা দানে ধাতু দ্বারা অসুন্ প্রত্যয়।
অপ্সরাদেরকে বেদে গন্ধর্বদের পত্নী বলা হয় - "তাভ্যো গন্ধর্বপত্নীভ্যোঽপ্সরাভ্যোঽকরং নমঃ" (অথর্ব০ ২/২/৫)। "জায়া ইদ্ বো অপ্সরসো গন্ধর্বাঃ পতয়ো যূয়ম্" (অথর্ব০ ৪/৩৭/১২)। সুতরাং পূর্বে গন্ধর্বস্বরূপবিচার বিশ্লেষণে আমরা যে চেতন বা অচেতন গন্ধর্ব প্রতিপাদিত করেছি, তাদের পত্নী বা পত্নীতূল্য সহচারী হলো অপ্সরা। যজুর্বেদে কতিপয় গন্ধর্ব এবং অপ্সরাদের পরিগণন করা হয়েছে [২০] - যজুর্বেদ (১৮/৩৮,৪৩) -
এইভাবে ঔষধি, মরীচি, নক্ষত্রপংক্তি, আপঃ (জলধারা), দক্ষিণা, ঋক-সাম, বিদ্যুৎ, প্রজা, আধি (মনোব্যথা) - এগুলো সব অপ্সরা বা অপ্সরস্-এর বাচক হতে পারে। এগুলো ছাড়াও সেনা, রাষ্ট্রসংস্থা, রূপবতী স্ত্রীরাও এই শব্দগুলোর বাচ্যার্থ হয়।
অথর্ববেদের ৬ষ্ঠ কাণ্ড, ১১১ নং সূক্তে উন্মাদ-চিকিৎসার বর্ণনা আছে, যেখানে উন্মাদরোগ-নাশকদের মধ্যে 'অপ্সরসঃ'ও গণ্য করা হয়েছে। এখানে অপ্সরাদের দ্বারা ঔষধি, সূর্যের মরীচি, জলধারা, বিদ্যুৎ ইত্যাদি বোঝা যেতে পারে।
এমন মন্ত্র অনেক আছে, যেখানে একা একা গন্ধর্ব এবং অপ্সরা বা অপ্সরস্ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে প্রসঙ্গ ইত্যাদি দেখে এই শব্দগুলোর উপযুক্ত অর্থ করে নিতে হবে। কিছু শব্দ এমনও আছে, যেখানে এই শব্দগুলো একসাথে এসেছে।[২২] সেখানেও উপরে প্রদর্শিত অর্থগুলোর মধ্যে প্রসঙ্গ অনুযায়ী পরস্পর সম্পর্কযুক্ত যে অর্থ সঙ্গত সংগত হয়, সে অর্থটি নেওয়া যেতে পারে।।
যজুর্বেদে উদ্ধৃত অপ্সরাদের নাম
যজুর্বেদ-এর ১৫তম অধ্যায়ের ১৫-১৮ নম্বর মন্ত্রে প্রত্যেকটিতে দুইজন করে অপ্সরার নাম দেওয়া হয়েছে—
পুঞ্জিকস্থলা, ক্রতুস্থলা
মেনকা, সহজন্যা
প্রম্লোচন্তী, অনুম্লোচন্তী
বিশ্বাচী, ঘৃতাচী
উর্বশী, পূর্বচিত্তিঃ
এই অপ্সরাদের বিষয়ে যাজ্ঞবল্ক্য ঋষি শতপথ ব্রাহ্মণে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন—
১.পুঞ্জিকস্থলা ও ক্রতুস্থলা — আচার্য মাহিত্থির মতে দিশা ও উপদিশা; কিন্তু আমার মতে তারা সেনা ও সমিতি।
২.মেনকা ও সহজন্যা — আচার্য মাহিত্থির মতে দিশা ও উপদিশা; কিন্তু আমার মতে তারা দ্যুলোক ও পৃথিবী।
৩. প্রম্লোচন্তী ও অনুম্লোচন্তী — মাহিত্থির মতে দিশা ও উপদিশা; কিন্তু আমার মতে তারা দিন ও রাত্রি।
৪.বিশ্বাচী ও ঘৃতাচী —মাহিত্থির মতে দিশা ও উপদিশা; কিন্তু আমার মতে তারা বেদি ও স্রুক্ (যজ্ঞে আহুতি দেওয়ার কাঠের চামচ)।
৫. উর্বশী ও পূর্বচিত্তি — মাহিত্থির মতে দিশা ও উপদিশা; কিন্তু আমার মতে তারা আহুতি ও দক্ষিণা।
শতপথ ব্রাহ্মণ (৮/৬/১/১৬-২০) [২৩]
গন্ধর্ব এবং অপ্সরা নিন্দিত অর্থে
ঋগ্বেদ, বা০ মা০ যজুর্বেদ তথা সামবেদে গন্ধর্ব ও অপ্সরা ( বা অপ্সরস্) শব্দ নিন্দিত অর্থে প্রযুক্ত হয়নি। অথর্ববেদেও এদের প্রয়োগ প্রায় প্রশস্ত অর্থেই হয়েছে, কিন্তু কদাচিত নিন্দিত অর্থেও প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয়। প্রশস্ত অর্থে গন্ধর্ব ও অপ্সরা শব্দের প্রয়োগ ইতিমধ্যে দেখানো হয়েছে, এখন নিন্দিত অর্থে এদের প্রয়োগের উদাহরণ অথর্ববেদ থেকে তুলে ধরা হচ্ছে। যথা -
ত্বয়া বয়মপ্সরসো গন্ধর্বাশ্চাতয়ামহে।
অজশৃঙ্গ্যজ রক্ষঃ সর্বান্ গন্ধেন নাশয়।।
- অথর্ববেদ (৪/৩৭/২)
এখানে অজশৃঙ্গী ঔষধীর গন্ধাদির দ্বারা গন্ধর্ব ও অপ্সরাদেরকে নষ্ট করার কথা বলা হয়েছে। এই গন্ধর্ব এবং অপ্সরাগণ রোগকৃমি বা রোগ বিস্তারকারী জীবাণু। গন্ধর্ব[২৪] হলো ভূমিতে বসবাসকারী কীট আর অপ্সরা[২৫] হলো পানিতে থাকা জীবাণু প্রভৃতি।
অথর্ববেদের এই সূক্তের অন্য একটি মন্ত্রে স্ত্রীকামুক নিন্দাস্পদ পুরুষকে গন্ধর্ব বলা হয়েছে -
শ্বেবৈকঃ কপিরিবৈকঃ কুমারঃ সর্বকেশকঃ।
প্রিয়ো দৃশ ইব ভূত্বা গন্ধর্বঃ সচতে স্ত্রিয়স্তমিতো নাশয়ামসি ব্রহ্মণা বীর্যাবতা।।
- অথর্ববেদ (৪/৩৭/১১)
কোনো স্ত্রীকামুক পুরুষ পোষাকুকুরের রূপ ধারণ করে আসে, কেহ পোষা বানরের রূপ নিয়ে আসে আবার কেহ নিজের সম্পূর্ণ শরীরে পশম লাগিয়ে কুমার বা যুবকের রূপ নিয়ে আসে। এ প্রকারে স্ত্রীদের পছন্দের রূপে এসে তাদের সম্ভোগ করে। এমন কামুক পুরুষদের নষ্ট করে দেওয়ার কথা মন্ত্রে ব্যক্ত করা হয়েছে।
অথর্ববেদের ভূমিসূক্তের নিম্ন মন্ত্রটিও দ্রষ্টব্য -
যে গন্ধর্বা অপ্সরসো যে চারায়াঃ কিমীদিনঃ।
পিশাচানৎসর্বা রক্ষাংসি তানস্মদ্ভূমে যাবয়।।
- অথর্ববেদ (১২/১/৫০)
এইপ্রকার বেদে গন্ধর্ব,অপ্সরা এবং অপ্সরস্ শব্দগুলোর উপর ব্যাপক অধ্যয়ন করার পর আমি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে বেদে এই শব্দগুলো বিচিত্র অর্থে প্রযুক্ত রয়েছে, কদাচিৎ এর মধ্যে পতি-পত্নীর সম্বন্ধ রয়েছে, কদাচিৎ তারা স্বতন্ত্র, এমনটা নয় যে বেদে এদের অন্তরীক্ষবর্তী যোনি-বিশেষ হিসেবে স্বীকার করা হয়েছে।।
লেখক - ড. রামনাথ বেদালংকার মীমাংসা কাব্যতীর্থ
১. বিদ্যাধরাপ্সরোয়ক্ষরক্ষোগন্ধর্ব কিন্নরাঃ। পিশাচো গুহ্যকঃ সিদ্ধো ভূতোঽমী দেবযোনয়ঃ।। - অমরকোষ (১/১/১১)
২. গন্ধর্বস্যু নভশ্চরে। পুংস্কোকিলে গায়নে চ মৃগভেদে তুরংগমে। অন্তরাভবদেহে চ। - অনেকার্থসংগ্রহ (৩/৭৩৫/৩৬), পাশাপাশি আরো দ্রষ্টব্য - হলায়ুধ কোশ (বিবৃতি), হিন্দি সমিতি, লাখনৌ, সংস্কৃত-ইংলিশ-ডিকশেনারী-আপ্টে মোনিয়ার উইলিয়ামস।
৩. অগ্নির্হ গন্ধর্বঃ। সূর্যো গন্ধর্বঃ। চন্দ্রমা গন্ধর্বঃ। বাতো গন্ধর্বঃ। যজ্ঞো গন্ধর্বঃ। মনো গন্ধর্বঃ। শতপথ ব্রাহ্মণ (৯/৪/১/৭-১২); প্রাণো বৈ গন্ধর্বঃ। জৈমিনীয় উপনিষদ ব্রাহ্মণ (৩/৬/৮/৩)
৪. গন্ধর্ববদের গন্ধের সাথে সম্বন্ধ বৈদিক সাহিত্যে পরিলক্ষিত হয়। যথা, তং পুণ্যং গন্ধং গন্ধর্বাপ্সরস উপজীবন্তি। অথর্ববেদ (৮/১৪/৮), যস্তে গন্ধঃ পৃথিবী সং বভূব….....। যং
গন্ধর্বা অপ্সরসশ্চ ভেজিরে। অথর্ববেদ (১২/১/২৩) অথো গন্ধেন চ বৈ রূপেণ চ গন্ধর্বাপ্সরসশ্চ চরন্তহ। শতপথ ব্রাহ্মণ (৯/৪/১/৪), গন্ধ পূর্বক অর্ব ধাতুর সাথে অণ্ প্রত্যয়, শফন্ধ্বাদিত্বাৎ পররূপ।
৫. "গবি গন্ ধৃঞো বঃ 'ইতি গোশব্দোপপদাৎ ধৃঞ ইত্যস্মাদ্ ব প্রত্যয়ঃ উপপদস্য গনভাবশ্চেতি - সায়ণ। ~ ঋগ্বেদ (১০/১২৩/৬) অথর্ববেদ (২/১/২) ভাষ্য
৬. গানাদ্ বা গন্ধর্বঃ ইতি যজুর্বেদ (১৭/৪২) উবটমহীধরাচার্যের ভাষ্য
৭. দয়ানন্দ আর্যাভিবিনিয়স্য (২/২৪) ভাষ্য
৮. প্রাণো বৈ পতঙ্গঃ, স ইমাং বাচং মনসা বিভর্তি। তাং গন্ধর্বোঽবদদ্ গর্ভে অন্তঃ ইতি। প্রাণো বৈ গন্ধর্বঃ, পুরুষ উ গর্ভঃ। স ইমাং পুরুষে অন্তর্বাচং বদতি ( জৈ০ উ০ ব্রা০ ৩/৬/৮/৩)। তাম্ এব বাচম্ গর্ভে শরীরস্য মধ্যে বর্তমানঃ গন্ধর্বঃ গাঃ শব্দান্ ধারয়তীতি গন্ধর্বঃ প্রাণবায়ুঃ অন্তঃ মধ্যে অবদৎ বদতি প্রেরয়তি - মারুতস্তূরসি চরন্ মন্দ্রং জনয়তি স্বরম্ ( পা০ শি০ ৭) ইতি স্মরণাৎ - সায়ণ।
৯. কশ্যপঃ পশ্যকো ভবতি যৎ সর্বং পরিপশ্যতীতি সৌক্ষ্ম্যাৎ। - তৈত্তিরীয় আরণ্যক ১.৮.৮
১০. সুষুম্ণঃ সূর্যরশ্মিচন্দ্রমা গন্ধর্বঃ। যজুর্বেদ (১৮/৪০)
১১. অয়ম্ ইন্দ্রঃ গন্ধর্বং গামুদকং ধারয়তীতি গন্ধর্বো মেঘঃ তম্ অভি আ অতৃণৎ সর্বতো হিংসিতবান্। কুত্র? অবুধ্নেষু পদনিধানযোগস্থানরহিতেষু রজাসু লোকেষু অন্তরিক্ষপ্রদেশেষ্বিত্যর্থঃ - সায়ণ।
১২. গন্ধর্বঃ যো গাং পৃথিবীং ধরতি স বায়ুঃ - দয়ানন্দভাষ্য ( ঋগ্বেদ ১/১৬৩/২)
১৩. গন্ধর্বঃ গোর্বাচো ধারয়িতা পৃথিব্যা বা ধারয়িতা গন্ধর্বোঽগ্নিঃ, গানাদ্ বা গন্ধর্বোঽগ্নিঃ - যজুর্বেদ (১৭/৩২) উব্বটভাষ্য।
১৪. তস্মাদ্ বা এতস্মাদাত্মন আকাশঃ সম্ভূতঃ, আকাশাদ্ বায়ুঃ বায়োরগ্নিঃ অগ্নেরাপঃ। - তৈত্তিরীয় উপনিষদ ব্রহ্মবল্লী
১৫. গন্ধর্বাঃ কর্ষকা যে গৃহপতিনা নিযুক্তা ক্ষেত্রেষু কৃষিকর্ম কুর্বন্তি - সায়ণ।
১৬. গন্ধর্বাণাং গায়কানাম্। যজু০ ২৪/৩৭, দয়ানন্দভাষ্য।
১৭. গীতিরূপাঃ বাচো গাঃ ধারয়তীতি গন্ধর্বঃ - সায়ণ, অথর্ব০।
১৮. গন্ধর্বা গানবিদ্যাবিদঃ সূর্যোদয়ো বা। ঋ০ ভা০ ভূ০, অথর্ব০ ১১/৭/২৭, গন্ধর্বাণাং গায়কানাম্, যজুর্ভাষ্য ৩৪/৩৭।
১৯. আপ ইত্যন্তরিক্ষনাম্, উদকং বা, তত্র সরসীতি, অপ্সরা, বাহুলকাদ্ অচ্। যদ্বা অপ্স ইতি রূপনাম্ রো মত্বর্থীয়। উভয়ত্র টাপ্। অথবা অপ্সু সরতীতি অপ্সব্দোপপদাৎ সর্তেঃ অসুন্। অপ্সশব্দোপপদাৎ লা আদানে ইত্যস্মাদ্ বা রত্বে অসুন্। রা দানে ইত্যস্মাদ্ বা অসুন। তয়া চ সকারান্তোঽপ্সরঃশব্দঃ। তস্যৈবঃ ব্যত্যয়েন সকারস্য আত্বম্। এতৎ সর্বং যাস্কেনোক্তম্ - "অপ্সরা অপ্সারিণী। অপি বা অপ্স ইতি রূপনাম, অপ্সাতেঃ অপ্সানীয়ং ভবতি, আদর্শনীয়ং ব্যাপনীয়ং বা ইতি। তদ্রা ভবতি রূপবতী। তদনয়া আত্মমিতি বা, তদসৈ দত্তমিতহ বা" (নিরুক্ত ৫/৩), সায়ণভাষ্য, অথর্ববেদ (২/২/৩)
২০. অগ্নির্গন্ধর্বস্তস্যৌষধয়োঽপ্সরসো মুদো নাম। সূর্যো গন্ধর্বস্তস্য মরীচয়োঽপ্সরস আয়ুবো নাম। চন্দ্রমা গন্ধর্বস্তস্য নক্ষত্রাণ্যপ্সরসো ভেকুরয়ো নাম। বাতো গন্ধর্বস্তস্যাপো অপ্সরস ঊর্জো নাম।
যজ্ঞো গন্ধর্বস্তস্য দক্ষিণা অপ্সরসস্থাবা নাম। মনো গন্ধর্বস্তস্য ঋক্ সামান্যপ্সরস এষ্টয়ো নাম।
- বা০ মা০ শুক্ল যজুর্বেদ সংহিতা ১৮/৩৮,৪৩
পর্জন্যো গন্ধর্বস্তস্য বিদ্যুতোঽপ্সরসো রুচো নাম।
মৃত্যুর্গন্ধর্বস্তস্য প্রজা অপ্সরসো ভীরুবো নাম্।
কামো গন্ধর্বস্তস্যাঽঽধয়োঽপ্সরসঃ শোচয়ন্তীর্নাম।। - তৈ০ কৃষ্ণযজুর্বেদসংহিতা ৩.৪.৭.২
২১. এই মন্ত্রটির জন্য আমার পুস্তক দ্রষ্টব্য - "বৈদিকশব্দবিচারঃ" "মহর্ষিদয়ানন্দবৈদিকানুসন্ধানপীঠম্, পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় ; বিক্রমসংবত ২০৩৮, পৃষ্ঠা ৬২-৬৬।
২২. যথা - গন্ধর্বাপ্সরসো ব্রূমো অশ্বিনা ব্রহ্মণর্স্পাতম্। অর্যমা নাম যো দেবস্তে নো মুচ্চন্ত্বংহমঃ।। - অথর্ববেদ ১১/৮/৪
দেবাঃ পিতরো মনুষ্যা গন্ধর্বাপ্সরসশ্চ যে। উচ্ছিষ্টাজ্জজ্ঞিরে সর্বে দিবি দেবা দিবিঽত্রিতঃ।। - অথর্ববেদ (১১/৯/২৭)
২৩. শতপথ ব্রাহ্মণ (৮/৬/১/১৬-২০)
২৪. গোষু ভূমিষু ধ্রিয়ন্তে ইতি গন্ধর্বাঃ।
২৫. অপ্সু সরন্তীতি অপ্সরসঃ।

