গর্ভাধান
বিষয়
১. দেখুন
স্বামী দয়ানন্দ কি অশ্লীল কথা লিখেছে –
এখানে অশ্লীলতা নয়
গর্ভাধানের বিষয়ে বলা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে–
➤গর্ভাশয়ে
বীর্য্য পতনের সময় স্ত্রীপুরুষ উভয়ে স্থির থাকিবে।
আপনাদের মত কি- এসময়
নাচানাচি করিবে?
নাকি বলতে চান
পুরাণে উল্লেখিত–
দৌড়াতে দৌড়াতে বীর্যপাত করবে, আর কেহ এসে তা কানের মাধ্যমে স্থাপিতা করে দিবে। (শ্রীমদ্ভাগবত-৮/১২/১-৩২ এবং
শিবপুরাণ,শতরুদ্র সংহিতা-২০/৩-৭)
➤তারপর
বলা হয়েছে–
নাসিকার সম্মুখে নাসিকা এবং চক্ষুর সম্মুখে চক্ষু রাখিবে,
অর্থাৎ শরীর সরলভাবে রাখিবে এবং অত্যন্ত প্রসন্নচিত্ত থাকিবে,
হেলিবে দুলিবে না; পুরুষ নিজ শরীর শিথিল
করিয়া রাখিবে।
আপনাদের মত কি- এসময়
নাসিকা ও চক্ষু পিঠে রাখিবে এবং অপ্রসন্ন থাকবে, হেলিয়া
দুলিয়া' গান বাজিয়ে নাচিবে? পুরুষও
তার শরীর শিথিল না রেখে 'গৌরাঙ্গ বলিয়া দু বাহু তুলিয়া'
গানে নাচিবে?
উপনিষদে পড়ে দেখুন কি বলা হয়েছে–
অথ
যামিচ্ছেদ্দধীতেতি তস্যামর্থং নিষ্ঠায় মুখেন মুখং
সন্ধায়াপান্যাভিপ্রাণ্যাদিন্দ্রিয়েণ তে রেতসা রেত আদধামীতি গর্ভিণ্যেব ভবতি৷৷
(বৃহদারণ্যক উপনিষদ-৬/৪/১১)
আর যদি স্ত্রীতে পুরুষের গর্ভসঞ্চার
করার ইচ্ছে থাকে তবে সে স্ত্রীতে পুরুষাঙ্গ সংযোগ করে মুখে মুখ মিলিয়ে প্রথমে
নিঃশ্বাস ত্যাগ করে পরে প্রশ্বাস নিয়ে বলবে-'আমার ইন্দ্রিয় এবং রেতঃ
দিয়ে আমি তোমার রেতঃকে রক্ষা করছি।
মহাভারত,আদিপর্ব-১০০ তম অধ্যায় (গীতাপ্রেসের ১০৫ অধ্যায়) পড়ে
দেখুন- ব্যাসদেব যখন অম্বিকার সাথে মিলিত
হয়, তখন অম্বিকা দৃষ্টিপাত করেনি বলে অন্ধ পুত্র
ধৃতরাষ্ট্র জন্ম নেয়। আবার অম্বালিকাও মিলনকালে অপ্রসন্নত ভয়ে পাণ্ডুবর্ণ হয়েছিলো
বিধায়, পুত্রও পাণ্ডুবর্ণ হইয়াছিলো। (আরো দেখুন চরক
সংহিতায়)
ন চ
ন্যুব্জাং পার্শ্বগতাং বা সংসেবেত। ন্যুব্জায়া বাতো বলবান্ স যোনিং পীডয়তি, পার্শ্বগতায়া দক্ষিণে পার্শ্বে শ্লেষ্মা সংচ্যুতঃ পিদধাতি গর্ভাশয়ম্,
বামে পিত্তম পার্শ্বে। তদস্যাঃ পীডিতং বিদহতি রক্তং শুক্রঞ্চ।
তস্মাদুত্তানা সতী বীজং গৃহ্লীয়াৎ। তস্যা হি যথাস্থানমবতিষ্ঠন্তে দোষাঃ। পর্যাপ্তে
চৈনাং শীতোদকেহ পরিষিঞ্চেৎ।।৬।।
(চরক সংহিতা,শারীরীক-স্থানম্-৮/৬)
স্ত্রীকে
ন্যুব্জ বা পার্শ্বগত ভাবে শয়ন করাইয়া সঙ্গম করিবে না। ন্যুব্জ অবস্থায় রমণ করিলে, বায়ু বলবান হইয়া যোনিকে পীড়িত করে। পার্শ্বগত অবস্থায় থাকিলে, দক্ষিণ পার্শ্বে শ্লেষ্মা সঞ্চিত হইয়া গর্ভাশয় আচ্ছাদিত করে, এবং বামপার্শ্বে পিত্ত পীড়িত হইয়া গর্ভাশয়গত শুক্র-শোণিতকে বিদগ্ধ করে।
অতএব স্ত্রী উত্তানভাবে (চিৎ হইয়া) শয়ন করিয়া বীজগ্রহণ করিবে। কারণ, উত্তানভাবে থাকিলে, তাহার বাতাদি দোষসকল
যথাস্থানে অবস্থিত থাকে। মৈথুনান্তে স্ত্রী, শরীরে শীতল
জল পরিষেচন করিবে।
এইসব
ঠিক থাকার পরেও যদি স্ত্রী অধিক ভোজন করে থাকে, ক্ষুধার্ত হইলে, তৃষ্ণার্ত হইলে, ভীত হইলে, তার মন উদ্বিগ্ন হইলে, শোকে ব্যাকুল থাকলে,
ক্রোধিত থাকলে, অন্য পুরুষের ইচ্ছা
থাকলে অর্থাৎ প্রেম না থাকলে, সহবাস করার প্রবল ইচ্ছা না
থাকলে, এমন স্ত্রী গর্ভ গ্রহণ করেন না। যদি কদাচিৎ গর্ভ
ধারণ হয়ে যায়, তাহলে বিকৃত সন্তান উৎপন্ন করে বা হয়। যে
স্ত্রী অতিবৃদ্ধ, দীর্ঘরোগিণী বা কোন রোগে পীড়িত থাকে,
তার সাথে সহবাস করা উচিৎ নয়। পুরুষও উপরোক্ত দোষে দুষ্ট হইলে
গর্ভধারণ করাতে অসমর্থ হয়। পুরুষও অল্প বয়স হলে, অতিবৃদ্ধ
হইলে, চিররোগী হইলে বা কোন রোগে পীড়িত হইলে সহবাস ত্যাগ
করে দিবে। অতঃ উত্তম সন্তানের ইচ্ছুক স্ত্রী ও পুরুষ এই সকল দোষ রহিত হয়ে সহবাসে
প্রবৃত্ত হইবে।
বিমর্শ : সহবাসে
বহু আসনের বিধান কামশাস্ত্রে বলা হয়েছে, কিন্তু তা বিভিন্ন
প্রকার আনন্দের জন্য, কেবল বিষয়ী পুরুষদের জন্য। সন্তান
উৎপত্তির দৃষ্টিতে সেসব আসন ত্যাজ্য, অতঃ সেসব আসনকে
সকারণ ত্যাগ এখানে বলা হয়েছে।
➤তারপর
বলা হয়েছে–স্ত্রী বীর্য্যগ্রহণের সময় অপান বায়ুকে উর্দ্ধে আকর্ষণ করিবে এবং যোনি
সঙ্কোচন পূর্বক বীর্য্য আকর্ষণ করিয়া গর্ভাশয়ে স্থাপন করিবে।
আপনাদের মত কি- বীর্য
বিকর্ষণ করে গর্ভধারণ করবে?
দেখুন মহাভারতে কি বলা হচ্ছে–
ঋতুকালে পুষ্পরসে সংযুক্ত বীর্যকে
বায়ু গর্ভাশয়ে আকর্ষণ করে নেয়। সেখানে গর্ভাশয়ে সূক্ষ্মভূত উহাতে অধিকার করে নেয়, আর তা ক্রমশঃ গর্ভের বৃদ্ধি করে।
বিষ্ণু যখন পরস্ত্রী তুলসীর সাথে ছল
করে, তুলসীর স্বামীর রূপ ধারণ করে সম্ভোগ করছিলো, তখন
ধরা পড়েছিলো কিভাবে জানেন? এই আকর্ষণের জন্যই। দেখুম কি
বলা হয়েছে–
ইত্যুক্ত্বা জগতাং
নাথঃ শয়নং চ চকার হ ॥১৬॥
হে
নারদ! পরে রমাপতি সেই রমার সহিত রমণ করিলে সাধ্বী তুলসী সুখসম্ভোগের ও আকর্ষণব্যতিক্রমহেতু
সন্দেহান্বিত হইয়া কহিতে লাগিলেন;-হে মায়েশ! তুমি কে? বল, তুমি মায়াবলে আমাকে উপভোগ করিয়া আমার
সতীত্বনাশ করিয়াছ।
এজন্যই কি আকর্ষণের বিরোধ করতে চান? নাকি বলতে চান আকর্ষণ করলে অশ্বের ঐটা থেকে আকর্ষণ করবে, যেমনটা আপনাদের মান্য বেদভাষ্যে আছে? –
প্রমাণ জানতে– https://drive.google.com/file/d/1-8WbnCxWU8AK-S3Ji9DLzl_gZgQ5xGj_/view?usp=drivesdk
নাকি বলতে চান গর্ভাধান কেন করবে? করবে তো –
১.কর্ণাধান -
যেমনটা শিবের বীর্য অঞ্জনীর কানের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়েছে।
(শ্রীমদ্ভাগবত-৮/১২/১-৩২ এবং শিবপুরাণ, শতরুদ্র সংহিতা-২০/৩-৭)
২.নাসিকাধান -
যেমনটা সূর্যদেব করেছে,
তার স্ত্রী নাক দিয়ে সূর্যের বীর্য ধারণ করেছেন। (ভবিষ্যপুরাণ,ব্রাহ্মপর্ব-৭৯/৫৪-৫৬)
৩.মুখাধান - নাকি বলতে চান, করলে করবে মুখাধান তাও পুরুষের, নারীর নয়। যেমনটা সৌরপুরাণে (৫৩/৩৬,৩৭) বলা হয়েছে।
নাকি রহস্যময় সেই ধান করতে বলতে চান, যেমটা অসুররা ব্রহ্মাকে করতে চাইছিলেন (শ্রীমদ্ভাগবত-৩/২০/২৩-২৪)
২.তিনি নিশ্চয় এমন করেছে এজন্যই এসব লিখেছে, তা না হলে গর্ভাধান বিষয়ে তিনি কিভাবে জানেন?
যে ডাক্তাররা বিষক্রিয়া নষ্ট করার
জন্য,
বিষপানকারী ব্যক্তির সাথে যা যা
করে, তা কি নিজে প্রথম বিষপান করে অনুভব করে নেয়?
আপনাদের মাতা-পিতা যে আপনাকে সাবধান করতে বলেছিলো– রাস্তায় দেখে শুনে চলিও না হলে এক্সিডেন্ট করে মারা যাবে, জলে যেওনা ডুবে মরে যাবো, এসিড ধরিওনা পুড়ে
যাবে – তা এসব কি আপনাদের মাতা-পিতা এক্সিডেন্ট করে মরে,
জলে ডুবে মরে, এসিড ধরে হাত পুড়ে অনুভব
করে বলেছিলো?
মহাভারতে যুধিষ্ঠির
যখন প্রশ্ন করেছিলেন–
স্ত্রী-পুরুষের
সংযোগে বিষয়সুখের অনুভূতি কার অধিক হয়? (স্ত্রীর নাকি পুরুষের)
এ বিষয়ে আপনি যথাস্বরূপ বলুন কৃপা করে।
উত্তরে ভীষ্মপিতামহ বলেন–
এবং স্ত্রিয়া
মহারাজ অধিকা প্রীতিরুচ্যতে ॥ ৫৪
স্ত্রীর
বিষয়ভোগে পুরুষের থেকে বেশি সুখ প্রাপ্তি হয়।
ভীষ্মপিতামহ
কি নিজে করে অনুভব করেছিলেন নারী পুরুষের সংযোগে নারী অধিক সুখ প্রাপ্ত হয়?
ধৃতরাষ্ট্র, পাণ্ডুর জন্ম তো ভীষ্ম পিতামহের বুদ্ধি পরামর্শেই ব্যাসদেবের নিয়োগে হয়েছে, তা ভীষ্মপিতামহ কি নিজে নিয়োগ করে অনুভব করে পরামর্শ দিয়েছিলেন?
পৌরাণিকদের মস্তিষ্কজাত সমস্যা আছে
হয়তো,
তাই এমন অবান্তর কথা বলেন। স্বামী দয়ানন্দের বিশেষ করে আপনাদেরই উপকার করেছে এই বিধি লিখে, নয়তো কানে বীর্যপাত করতেন অথবা নাকে করতেন। নতুবা স্ত্রীকে পাঠিয়ে
দিতেন অশ্বের বীর্য নিতে। কিন্তু এতে
সন্তান প্রাপ্তি আর হতোনা।
প্রিয়রত্ন বিদ্যার্থী